মাম্পস কিঃ
মাম্পস (Mumps) একটি সংক্রামক রোগ যা প্যারামাইক্সোভাইরাস (Paramyxo virus family) পরিবারের ভাইরাস দ্বারা সংঘটিত হয়। এই রোগটি সাধারণত শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়, তবে প্রাপ্তবয়স্করাও এতে আক্রান্ত হতে পারে। এটি প্রধানত লালাগ্রন্থি (প্যারোটিড গ্রন্থি, parotid gland) ফোলায় এবং ব্যথা সৃষ্টি করে (parotitis)।
সংক্রমণ কিভাবে ঘটে:
মাম্পস রোগ ড্রপলেট সংক্রমণের মাধ্যমে ছড়ায়, যা সাধারণত সংক্রামিত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা কথা বলার সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও, আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমে বা সংক্রামিত বস্তু স্পর্শ করার পর হাত মুখে দিলে সংক্রমণ ঘটতে পারে।
লক্ষণ:
- জ্বর, মাথাব্যথা, ক্লান্তি এবং ক্ষুধামান্দ্য।
- প্যারোটিড গ্রন্থি ফুলে যায় এবং ব্যথা হয়, যা সাধারণত একপাশে শুরু হয় এবং পরে উভয় পাশে ছড়াতে পারে।

জটিলতা (Complication): কিছু ক্ষেত্রে, এই রোগের কারণে গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে, যেমন:
- অর্কাইটিস (Orchitis, বীর্যগ্রন্থির প্রদাহ): পুরুষের বীর্য গ্রন্থি (টেস্টিস) অত্যন্ত ব্যথা হয় এবং ফুলে যায়। এটা সাধারনত কয়েক দিনের মধ্যে ভাল হয়ে যায়। কারো কারো ক্ষেত্রে, পরবর্তিতে টেস্টিস আকারে ছোটো হয়ে যায় এবং নরম হয়ে যায় (testicular atrophy), যার কারণে শুক্রানু তৈরীর পরিমান কমে যেতে পারে (reduced sperm count)।
- ওফোরাইটিস (Oophoritis): নারী রোগীদের ক্ষেত্রে, গর্ভাশয় (ovary) এর প্রদাহ হয়, ফলে পরবর্তিতে সন্তান জন্মদানের সম্ভাবনা কমে যেতে পারে (infertility)
- মেনিনজাইটিস (Meningitis, মস্তিষ্কের আবরণ প্রদাহ):
- প্যানক্রিয়াটাইটিস (Pancreatitis,অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ): এটির কারণে পরবর্তিতে কারো কারো ডায়াবেটিস রোগ হতে পারে।
রোগ নির্ণয়:
- মাম্পস রোগ নির্ণয়ের জন্য ক্লিনিক্যাল লক্ষণসমূহ পর্যবেক্ষণ করা হয়। লালাগ্রন্থির ফোলা এবং ব্যথা এই রোগের প্রধান চিহ্ন (symptoms)।
- কিছু ক্ষেত্রে, ভাইরাল কালচার (viral culture) বা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় নিশ্চিত করা হয়।
চিকিৎসা:
- মাম্পস রোগের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল (antiviral) ওষুধ নেই।
- তবে লক্ষণ উপশমের জন্য নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করা হয়:
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম গ্রহণ
- পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ।
- ব্যথা এবং জ্বর নিয়ন্ত্রণে প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন ব্যবহার জাতীয় ঔষধ গ্রহন
প্রতিরোধ:
মাম্পস রোগ প্রতিরোধে এমএমআর ( MMR= Measles, Mumps, Rubella) ভ্যাকসিন অত্যন্ত কার্যকর। শিশুরা সাধারণত ১২ থেকে ১৫ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ৪ থেকে ৬ বছর বয়সে দ্বিতীয় ডোজ পায়।
উপসংহার:
মাম্পস একটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সংক্রামক রোগ, যা সময়মতো চিকিৎসা এবং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টিকাদান কার্যক্রমের মাধ্যমে এর প্রাদুর্ভাব হ্রাস করা যেতে পারে।